টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণে খুলনার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে। ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও স্বাভাবিক কর্মজীবন, আর জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
নগরীর রয়েল মোড়, রূপসা এলাকার আশপাশ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেন সড়ক, ১ নম্বর গলি, বোখারীপাড়া, মুজগুন্নি ও বয়রা এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি।
বোখারীপাড়া মসজিদের পেছনের এক বাসিন্দা জানান, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে তাদের এলাকা একইভাবে জলাবদ্ধ রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বাসা নিচতলায়, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে বয়রা নতুন রাস্তা মোড় থেকে রায়ের মহল হয়ে কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ইজিবাইকচালকসহ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজ কমে যাওয়ায় দিনমজুররা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, রাস্তায় মানুষের চলাচল কম থাকায় রিকশা ও ইজিবাইকচালকরাও পর্যাপ্ত ভাড়া পাচ্ছেন না। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় যানবাহনের ইঞ্জিনে সমস্যাও দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
রিকশাচালক হাসান বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইজন যাত্রী পেয়েছেন তিনি। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
নিরালা এলাকার ফল ব্যবসায়ী সোহেল জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে আম, আপেল ও আঙুর বিক্রি না হওয়ায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানান তিনি।
ময়লাপোতা মোড়ের এক মুদি দোকানদার বলেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় গত দুই-তিন দিনে বিক্রি প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, নিরালা থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় টানা বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে শুক্রবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।