পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় শাপলা প্রতীকের শোডাউন চলাকালে সড়কের ওপর টানানো বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরের ধানের শীষ প্রতীকের একটি নির্বাচনী ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলা থেকে জনসভা শেষে শোডাউন করে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ১৪ দলীয় নেতাকর্মীদের গতিরোধ করে এবং তাদের ওপর হামলা ও মারধর করে। এতে একজন নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যান ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবি জানান।
অন্যদিকে গভীর রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান পঞ্চগড়-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা কখনোই কাম্য নয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মতিয়ার রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
এসআই/আরএন