আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার সকল কল-কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে রওয়ানা দিয়ে অতিরিক্ত বাস ভাড়ার কারণে বিপাকে পরেছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় এ অবরোধ করা হয়।
অবরোধকারীরা জানান, সোমবার পোশাক কারখানার শ্রমিকদের শেষ কর্মদিবস ছিল। নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষেরা একযোগে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়ায় সুযোগ বুঝে বাসচালক ও সহকারীরা কয়েকগুন বেশি ভাড়া আদায় করছেন। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও ন্যায্য ভাড়া কার্যকরের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
এদিকে, সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়া থানার পুলিশের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান অবরোধকারীরা।
জাহানারা নামে এক যাত্রী বলেন, 'প্রথমবারের মতো ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি বগুড়া যাচ্ছেন। কিন্তু ৫০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলেই নানা কথা শোনায় তারা।'
ন্যায্য ভাড়া কার্যকর এবং এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
সাভার পাকিজা এলাকার কাউন্টার মাস্টার নাজমুল বলেন, 'অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমরা সব টিকিট অনলাইনে কেটে থাকি। তবে লোকাল পরিবহন যেগুলো রয়েছে তারা হয়তো একটু বেশি ভাড়া নিতে পারে।'
বাসের জন্য অপেক্ষারত শ্রমিকরা বলেন, যাত্রী পরিবহনের মতো বাসের সংখ্যা কম থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেও কাঙ্খিত বাস পাওয়া যাচ্ছেনা। এই সুযোগে বাসের বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন মালিকপক্ষ।
নওগাঁ যাবেন পোশাক শ্রমিক আবুল কালাম। তিনি বলেন, 'ভোট দিতে নওগাঁ যাব। আগে ৫০০ টাকা ভাড়া ছিল, এখন ১০০০ টাকার বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। প্রশাসন যেন এর সমাধান করে দেয়।'
একই দাবি জামালপুরের যাত্রী মোখলেসের। তিনি বলেন, 'ছুটি পেয়েছি, এখনও বেতন পাইনি। বিকাশ থেকেও টাকা বের করা যাচ্ছে না। তার উপর ৩০০ টাকার ভাড়া এখন ১০০০ টাকা চাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আমার মতো অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরতে পারছেন না। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।'
পরিবার নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষারত আব্দুস সালাম বলেন, 'ভোট দিতে পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি। টিকিটের জন্য কাউন্টারে গেলে বলে সিট নেই, ভাড়া ১০০০ টাকার নিচে নেই। প্রশাসনের কোনো খবর নেই। গাড়িও কম। এখন এই অবস্থায় কিভাবে যাই?'
তিনি বলেন, 'অফিসে ডিউটি করি। বিকাশ, রকেট, নগদে ক্যাশ আউট বন্ধ। টাকা আছে, কিন্তু বের করতে পারছি না। আমরা দুই শিশু নিয়ে রাস্তার মধ্যে বসে আছি।'
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান বলেন, 'নির্বাচনের ছুটিতে মানুষজন সব একসাথে বাড়ি ফেরার কারণে সড়কে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরী হয়েছে। এছাড়া যাত্রীর চেয়ে পরিবহনের সংখ্যা কম। ফলে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছে। তবে অবরোধের বিষয়টি জানা নেই।'
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, 'যাত্রীদের অভিযোগ শোনার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে তারা সড়ক থেকে সরে গেছেন। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।'
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকার নির্বাহী আদেশে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি বহাল থাকবে। এছাড়া ভোটের পরের দিন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি আছে। ফলে নির্বাচন উপলক্ষে টানা কয়েক দিন ছুটি থাকায় সোমবার রাত থেকেই শ্রমিক-কর্মচারীরা শিল্পাঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছে।
ওএফ/এমএ