বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশের পুনর্গঠনের জন্য। তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবং নানা ধরনের নির্যাতন ভোগ করেছে।
শনিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসমাবেশে তারেক রহমান বলেন, দেশের যুবক ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা হয়নি, মা-বোনদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, আর কৃষকদের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা করেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘবে কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকল, রেশম কারখানা ও চা শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এসব শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত স্থানীয় তরুণদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে আইটি পার্ক বা আইটি হাব স্থাপন করা হবে, যাতে তারা নিজ এলাকায় থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গ্রামে গ্রামে ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। এসব কর্মী মূলত মা ও শিশুদের ঘরে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া এলাকায় মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জনদাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা স্থানীয় বিমানবন্দরটি দ্রুত চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।
এসআর