রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে চলনবিল, বড়াল নদী দখল দূষণ করা হয়েছে। ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। ফলে হারিয়ে গেছে নদীর গতিপথ, হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। বছরের পর বছর এভাবেই নদীকে শাসন করেছে এক শ্রেণীর মানুষ।
শুক্রবার সকালে পাবনার চাটমোহর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের সাথে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি।
মিজানুর রহমান বলেন, 'প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিল, নদীর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সেটি আজকে আমরা অনুধাবন করতে না পারলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝতে পারবে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেলাম।'
তিনি বলেন, 'আজকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণে বুড়ি পোতাজিয়ায় চলনবিলের পতিতমুখ, বড়াল নদীর পতন মুখ এবং গোহালা নদীর পতন মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ৫২০ কোটি টাকা ব্যয়ে যদি ওই স্থানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপিত হয় তাহলে চলনবিলের পানি যমুনাতে যাবার একমাত্র পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চলনবিল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় চাই তবে সেটি চলনবিলকে ধ্বংস করে নয়। কারণ চলনবিলের অভ্যন্তরে ৪৭টি নদী, ১৬৩টি বিল, ৩০০টির বেশি খাল, এক লক্ষ ২০ হাজার পুকুর, ১০৫ প্রজাতির দেশী মাছ, ৩৪ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, সাত প্রকারের উভচর প্রাণী, ৩৪ প্রজাতির পাখি, অসংখ্য প্রকারের জলজ ও স্থলজ উদ্ভিদ এবং জলজ প্রাণীর উপস্থিতিসহ বৈচিত্র্যের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ছয়টি জেলার এক কোটিরও বেশি মানুষ নির্ভরশীল।'
মিজানুর রহমান বলেন, 'আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীকে তাদের ইশতেহারে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষায় বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্তকরণে চলনবিল এবং বড়াল রক্ষায় কি কি যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সে বিষয়ে লিখিত ভাবে জানানো হবে।'
সভায় সাবেক কাউন্সিলর শ্রী জয়দেব কুন্ডু, এ্যাড. এস এম আব্দুর রউফ, প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজা, শিক্ষক আব্দুস সালাম, ডাক্তার আতিকুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরআর/এমএ