বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা এই দেশ শাসন করেছে তাদের এখন লাল কার্ড দেখাতে হবে। তারা নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততায় আর মানবিকতায় ব্যর্ততা দেখিয়েছে।'
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড মাঠে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল জনসভা ও ১১ দলীয় প্রার্থীদের ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'এ দেশকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শাসন করেছে। এই তিন দলকে যদি প্রশ্ন করা হয়, রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, দলীয়করণ আর নির্যাতন কারা করে নাই তখন তারা উত্তর দিতে পারবে না। এর অন্যতম কারণ প্রত্যেকটি দল শোষণ করেছে। তাই সেই ফেলু ও শাসক পার্টিদের নিয়ে আর দেশ পরিচালনা চলবে না।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে মানুষকে বলে বেড়ানো হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে না কি পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। আবার বলে কেউ ভোট দিতে গেলে ঠ্যাঙ ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসছে নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সিসি ক্যামেরার অর্থ বরাদ্দ করেছেন। বডি ক্যামেরা থাকবে। আপনারা মনে রাখবেন মাস্তান পার্টিরা কেউ কিছু করতে গেলেই ধরা খেয়ে যাবে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী, বিজিবি সবাই থাকবেন।'
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি মুক্ত করা হবে, নবজাতককে সুচিকিৎসা, মায়েদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে এবং আগামীতে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হবে।'
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'বিএনপি, বঙ্গভবন ও ইন্ডিয়ার প্যাকেজে প্রোগ্রামের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা ক্ষুন্ন করার জন্য সাইবার অ্যাটাক শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে লিখা হচ্ছে- বঙ্গভবনের লোককে দিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়। পোস্ট দেওয়া মাত্রই ছাত্রদল ঢাবিতে এক কর্মসূচি হাতে নেয়।'
তিনি বলেন, 'বিএনপি এখন বলে ফ্যামেলী কার্ড দেবে। এটা ভুয়া, ভুয়া। ভুয়া বলারও তো একটা লিমিট আছে। দেশে মানুষ আছে ১৮ কোটি অথচ তারা না কি ৫০ কোটি কার্ড দেবেন। ভুলে গেলে চলবে না ইতিপূর্বে আপনারাই একবার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন বেকার ভাতা দেবেন। সেই ভাতার রেজাল্ট কোথায়? মূলত আপনাদের এই আশ্বাস হচ্ছে শেখ হাসিনার ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর মতোন আশ্বাস।'
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, 'বিএনপির নতুন সভাপতি তারেক রহমান তার এক বক্তৃতায় বলেছেন জামায়াতও আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ছিলেন। তখন আমরা কেনো পদত্যাগ করেনি? তারেক রহমানের ওই বক্তব্যের জবাবে আমাদের আমীর বলেছেন- ওই সময় দুর্নীতির সাগরের মধ্যে জামায়াত যে সৎ থাকতে পারে সে জন্য আমাদের কেউ পদত্যাগ করে নাই। তখন সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝানো হয়েছিল যে দাঁড়িওয়ালা টুপিওয়ালাদের দেশ পরিচালনা করার যোগ্যতা নাই। আমরা সেটির প্রমাণ দিয়েছি।'
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মহানগর জামায়াত ইসলামী আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমদ, জেলা আমির মমিনুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দেয়ার ঘড়ি প্রার্থী সিরাজুল মামুন, এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
এর আগে বিভিন্ন স্থানে থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেন নেতাকর্মীরা।
এসএস/এমএ