যশোরের ঝিকরগাছায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন লুট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
রোববার সন্ধ্যায় যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসার এবং ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ফরিদ বলেন, রোববার দুপুরে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চাইতে যান ঝিকরগাছা মহিলা জামায়াতের আমীর জোৎস্না খাতুন, রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিসসহ আরও কয়েকজন নারী কর্মী। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোল, সবুজ, আহনাত ও সোহাগসহ ১০–১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা নারী কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনগুলো ভাঙচুর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলায় অন্তত ১০ জন নারী কর্মী আহত হন এবং তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, এলাকায় রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং সাধারণ ভোটারদের জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-২ আসনের নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, চৌগাছা উপজেলা আমীর গোলাম মোর্শেদ, ঝিকরগাছা উপজেলা আমীর আব্দুল আলীম, উপজেলা সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার আব্দুর রফিক, নাভারণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকসহ জামায়াত ও মহিলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নি। তিনি বলেন, ওই নারীরা আমার বাড়িতে ভোট চাইতে এসেছিলেন। তখন আমার কর্মীরা শুধু জানতে চেয়েছিলেন, আপনারা কেন আমাদের প্রার্থীর বাড়িতে ভোট চাইতে এসেছেন। এর বাইরে আর কিছুই হয়নি। হামলা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এসকেআর/এসআর