মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা, কাস্টমারকে প্রতিশ্রুত পণ্য না দেওয়াসহ ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে খাস ফুডের সকল পর্যায়ের বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার দুপুরে ধানমন্ডি ঝিগাতলা এলাকায় খাস ফুডের কর্পোরেট অফিসে তদারকি চালিয়ে এই নির্দেশনা দেয় ভোক্তা অধিকার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আফরোজা রহমান, ভোক্তা অধিকারের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
জানা যায়, অনলাইনে খাস ফুডের বিজ্ঞাপন দেখে একজন গ্রাহক মুগ ডাল অর্ডার করেন। গ্রাহক মুগ ডাল নেবার পর দেখেন সেই ডালের মধ্যে রং মেশানো। পরে গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অভিযোগ দায়ের করেন। ভোক্তার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদারকি করে ভোক্তা অধিকার। পরে ভোক্তা অধিকারের কার্যালয়ে শুনানিতে অংশ নিতে খাস ফুড কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে খাস ফুড নিজেদের ভুল শিকার করেন এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রিত মুগ ডাল ফেরত নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শুনানিতে খাস ফুডকে জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খাস ফুড কর্তৃপক্ষ শুনানিতে নিজেদের ভুল শিকার করলেও পরবর্তীতে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেনি। এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রিত মুগ ডাল ফেরত নিয়েছে নাকি নেন নি সে বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরকে কোনো তথ্য অবহিত করেনি।
পরে বুধবার দুপরে খাস ফুডের কর্পোরেট অফিসে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্ব-শরিরে উপস্থিত হয়ে তদারকি করেন। এসময় ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রমাণ পান। একই সঙ্গে কোথা থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছে তার যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আফরোজা রহমান বলেন, একজন ভোক্তা বিজ্ঞাপন দেখে খাস ফুড থেকে মুগ ডাল ক্রয় করেন। কিন্তু মুগ ডাল বাসায় নেওয়ার পর তিনি দেখেন ডালের মধ্যে রং মেশানো। ভোক্তা প্রতারিত হয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে খাস ফুডের প্রতিনিধি নিজেদের ভুল শিকার করেন এবং বলেন তাদের সাপ্লাইয়ারের ভুলের কারণে মুগডালে রং মেশানো হয়েছিল। যেহেতু রং মেশানো হয়েছে তাই ঐ লটের সব ডাল ফেরত নেওয়া হবে। এসব ডাল আর বিক্রি করা হবে না। এবং ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে ভোক্তাদের পণ্য সরবরাহ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় খাস ফুডকে জরিমানা করা হয় এবং বাজার থেকে রং মেশানো মুগ ডাল ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু খাস ফুড এই নির্দেশনা পালন করেনি।
আফরোজা রহমান বলেন, আমরা আজ এই প্রতিষ্ঠানে এসে দেখলাম খাস ফুড ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এসব বিজ্ঞাপন কতটুকু সঠিক তা যাচাই করার জন্য খাস ফুডের সকল প্রকার বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। এবং এসব প্রচারিত বিজ্ঞাপনের স্বপক্ষে যেসব প্রমাণ রয়েছে সেগুলো দাখিলের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
এসআর