আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত হাঁস প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
রুমিন ফারহানা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করে।
প্রতীক বরাদ্দের পর রুমিন ফারহানা জানান, হাঁস তাঁর পছন্দের প্রতীক ছিল এবং সেটিই তিনি চেয়েছিলেন। পছন্দের প্রতীক পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এতে চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। দলীয় প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের ভালোবাসার কারণেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে দেখলে ছোট ছোট বাচ্চারা বলে—আমাদের হাঁস মার্কা। তাই এই প্রতীক আমার ভোটারদের প্রতীক।”
নিজের পালিত হাঁস চুরির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমার হাঁস চুরি হলে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এই প্রতীক নিয়ে কেউ অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা তাঁকে নির্বাচিত করলে তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের উন্নয়নে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দুটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এসআর/আরএন