কক্সবাজারের উখিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের ৪৪৮টি ও স্থানীয়দের ১৬টি ঘর পুড়ে গেছে। সোমবার মধ্য রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের সূত্রপাত হয়।
সূত্র জানায়, একটি লার্নিং সেন্টার (শিখন কেন্দ্র) থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন আচার্য্য এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে। এর মধ্যে আটটি ইউনিট সরাসরি অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয় এবং দুটি ইউনিট অতিরিক্ত হিসেবে প্রস্তুত ছিল। ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ করতে সকাল ৭টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে।'
তিনি আরও বলেন, 'অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের ৪৪৮টি বসতঘর ও স্থানীয়দের ১৮টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।'
এর আগে একই রাতে রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, আগুনে আসবাবপত্র ও নগদ অর্থসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। প্রাথমিক ভাবে তেলের কুপি বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভাড়াটিয়া জনি দাস বলেন, 'বাইরে থাকার সময় আগুন লাগে। ফিরে এসে দেখি টাকা-পয়সা ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। ঋণ নিয়ে নতুন দোকান করেছিলাম, সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে।'
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত সেজি দাস বলেন, 'টিনের চাল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর ছাড়ি।' জমি কেনার জন্য ব্যাংকে রাখার উদ্দেশ্যে জমানো প্রায় ১০ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লী এলাকার কুতুব বাজারেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেখানে বিমান বাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে স্থানীয়রা মনে করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত উত্তম কুমার বলেন, 'আমরা বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে ছিলাম। অগ্নিকাণ্ডে আমাদের সেলুনসহ দুটি দোকান, তিনটি বসতঘর পুড়ে যায়। এতে স্বর্ণালংকারসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।'
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে আগুনে ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এসইউ/এমএ