বাগেরহাটের ফকিরহাটে চলছে আসন্ন সরস্বতী পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা শিল্পীর নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গড়ছেন প্রতিমা। তাদের তুলির আঁচড়ে সরস্বতী প্রতিমার মুখ ফুটিয়ে তুলছেন।
ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকীর পালপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। রাতদিন পরিশ্রম করে মাটি দিয়ে দেবীর অবয়ব নির্মাণ করছেন কারিগররা। পূজার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে।
এছাড়া, অন্যন্য বছরের ন্যায় এবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতী প্রতিমার চাহিদা রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের বাড়ি থেকেই অনেকে প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে নিজ বাড়ি, মন্দির ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিমা নিতে আসছেন।
কয়েকজন মৃৎশিল্পী জাানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে দিনরাত পরিশ্রমের পর প্রতিমা তৈরির যে মজুরি পান তা দিয়ে জীবন যাপন করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
প্রতিমা শিল্পী জিৎ পাল জানান, তারা এ বছর ছোট-বড় ২২০ টি প্রতিমা তৈরী করেছেন। অধিকাংশ প্রতিমায় রং করা হয়ে গেছে। পূজার আগে সকল প্রতিমার রং করা শেষ হবে।
প্রতিমা শিল্পী লিটন পাল জানান, প্রতিমায় এখন চলছে রং তুলির কাজ। তুলির টানে প্রাণ পাচ্ছেন বিদ্যা দেবী। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরির জিনিস পত্রের মূল্য বেশী। সে তুলনায় প্রতিমার দাম কম। তবু ধর্মীয় অনুভূতির কারণে এ পেশায় আছেন।
প্রতিমা শিল্পী বিমল পাল ও অর্চনা পালসহ কয়েকজন প্রতিমা শিল্পী জানান, অন্য বারের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরী কম করেছেন। যেগুলো তৈরী করা হয়েছে তার অধিকাংশই অগ্রীম অর্ডার রয়েছে। এছাড়া কিছু প্রতিমা বিভিন্ন হাটে বিক্রি করবেন।
এদিকে সনাতন ধর্মবলম্বীদের বিদ্যা, জ্ঞান ও সুরের দেবী সরস্বতীকে বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন মন্দির, বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যথাযথ ধর্মীয় রীতি ও আচার মেনে পূজা উদযাপনের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে শিক্ষার্থী ও ভক্তকূল।
এএটি/ এসআর