দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাড়তি ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি মরিচ চাষিরা।
সরেজমিনে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি, খলিশাকোঠাল, বালাতাড়ী, কুরুষাফেরুষা, জাগিরটারী, গোরকমন্ডল, চর গোরকমন্ডলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—দুচোখ যেদিকে যায়, শুধু মরিচ আর মরিচ। সবুজে ছেয়ে থাকা মরিচখেত কৃষকের স্বপ্নপূরণের সবুজ সংকেত দিচ্ছে। এতে চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি।
এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক শুধু মরিচ নয়, নানা ধরনের রবিশস্য চাষ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। যেসব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই, তারাও অন্যের জমি লিজ বা বর্গা নিয়ে মরিচসহ বিভিন্ন রবিশস্যের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা এখন ক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মরিচ তুলছেন, আবার কেউ বাজারে বিক্রির জন্য মরিচ নিয়ে যাচ্ছেন।
গজেরকুটি এলাকার মরিচ চাষি আফজাল হোসেন ১ বিঘা, একই এলাকার তাহের আলী ৬ বিঘা এবং মজিবর রহমান ৫ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। তারা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন খুব ভালো হয়েছে। পাশাপাশি মরিচের ব্যাপক চাহিদা থাকায় খেতেই প্রতি মন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
আফজাল হোসেন জানান, ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি শুরুর পর পুরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ৬৫ থেকে ৭০ মন মরিচ উৎপাদন হয়। তিনি আরও জানান, এক মাস আগেই একটি জমির পুরো খেত স্থানীয় পাইকারদের কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। কোনো কোনো কৃষক ৬৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায়ও খেত বিক্রি করছেন। তিনি নিজে খেতে মরিচ বিক্রি করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন।
মরিচ চাষি মজিবর রহমান জানান, যেসব কৃষক খেত আগেভাগে বিক্রি না করে নারী শ্রমিক দিয়ে নিজেরা মরিচ তুলে স্থানীয় বাজার ও পাশের জেলা লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন, তারা প্রতি মন মরিচ ২ হাজার ৫০০, ২ হাজার ৮০০, ৩ হাজার, এমনকি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা, এমনকি ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় পাইকার দুলাল মিয়া ও মুসাব্বের আলী জানান, তারা এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মন মরিচ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে বিক্রি করছেন। এতে প্রতি মন মরিচে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কোনো কোনো দিন ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। এ বছর ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় চাষিদের পাশাপাশি পাইকাররাও লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে মোট ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে মরিচখেতে রোগবালাইয়ের তেমন কোনো আক্রমণ নেই। ফলে ফলন বাম্পার হয়েছে। পাশাপাশি মরিচের দাম ভালো থাকায় চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন।
এসি/আরএন