ফেনী–নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পাশে দাগনভূঞা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। বর্জ্য নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। ময়লার স্তূপে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখির বিচরণ ও ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। পচা ময়লার তীব্র দুর্গন্ধ এবং সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ায় জনসাধারণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
মহাসড়কের এই স্থানটি পার হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। দুর্গন্ধ এড়াতে অনেককে হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরতে দেখা যায়। স্থানটি অতিক্রম করার সময় চালকেরা গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন, যার ফলে কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।
জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণরামপুর এলাকার এই স্থানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে জায়গাটি এখন স্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ নানা রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেকেই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দুর্গন্ধের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা লোকজন বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ফল পাননি। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন, শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে।
পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছির ভনভন শব্দ শোনা যায়। পচা আবর্জনা ও পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ এড়াতে চালকেরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যান, এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, “রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে—এটা অনেকটা বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে। আমাদের একটি ডাম্পিং স্টেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করে পরিদর্শনও করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে যদি ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করা যায়, তাহলে ময়লাগুলো সেখানে ফেলা হবে।”
সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এটি/আরএন