নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এক সাহসী মায়ের ফোনেই শেষ পর্যন্ত বন্ধ হলো বাল্যবিবাহের আয়োজন। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বর আসার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বিয়ের আয়োজন।
রোববার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর শহরের দক্ষিণ নয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত দিন অনুযায়ী ১৩ বছরের এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তার মা। সামাজিক চাপ ও পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি সাহস করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ইউএনও'র নির্দেশে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানা পুলিশ। কনের জন্মনিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই মা। সচেতন মহল বলছে, সামাজিক বাধা ও ভয় উপেক্ষা করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্য অভিভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, 'ইউএনও এবং ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবানা তানজিনের পরামর্শে মেয়ের বাবাকে সর্তক করা হয়। একইসঙ্গে কিশোরীর পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিবারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।'
তিনি বলেন, 'বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এমএ