ফেনী শহরসংলগ্ন পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে, রড বেরিয়ে এসেছে এবং দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। সব মিলিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয়ের মধ্যেই পড়াশোনা করছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার মাহমুদ ইরান, বিবি মরিয়ম মারিয়া, জান্নাতুল ফাতেয়া ও জান্নাতুল মাওলা রাদিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিনেও ভবনটি মেরামত করা হয়নি। নিরাপদ পরিবেশে ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য সরকারের কাছে নতুন একটি ভবন নির্মাণের আবেদন জানাচ্ছি।
স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ ফারুক ও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন কী ঘটে যায় বলা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি মেরামত না করায় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, এর দায়ভার কে নেবে? বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় এলাকাবাসীর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিদ্যালয়টি একমাত্র ভরসা। এখন সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আমরা গভীর উদ্বেগে রয়েছি। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, যেন এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক অরূপ দত্ত জানান, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান করতে হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগ্রাম লোধ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিগত বন্যায় ভবনটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন। ফলে কেউ কেউ সরকারি বিদ্যালয় বাদ দিয়ে কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসামুখী হচ্ছেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, ফেনীর ছয়টি উপজেলায় মোট ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় জেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার সব বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) এর কাজ শুরু হলে সব বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে বলে আশা করছি।
এটি/আরএন