শীতের শুরুতেই চলনবিলে পাখি শিকারের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এ অবস্থায় বিলের পাখি রক্ষায় নিয়মিত কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।
বুধবার কাকডাকা ভোর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিংড়ার চলনবিলের সাতপুকুরিয়া, ডাহিয়া ও চৌগ্রাম বিলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় চার হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন পাখি শিকারের ফাঁদ জব্দ করে পুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। এছাড়া কারেন্ট জালের ফাঁদ থেকে ১১টি শালিক পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেন পরিবেশকর্মীরা।
বিলের পাখি রক্ষায় কাঁদাপানি মাড়িয়ে পাখি শিকারি ও বিলপাড়ের মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতামূলক পথসভা করেন সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত ও চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টায় ইউএনওর নির্দেশে মহেশচন্দ্রপুর ও শহরবাড়ি বিলে অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা। এ সময় দুই পাখি শিকারি দৌড়ে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে আরও দুই হাজার মিটার কারেন্ট জালের ফাঁদ জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুমে চলনবিলে দেশীয় শালিক, ঘুঘু, বক, বালিহাস, রাতচোরা, শামুকখোলসহ বিভিন্ন অতিথি পাখির আগমন ঘটে। কারেন্ট জালসহ নানা ফাঁদ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে এক শ্রেণির শিকারি এসব পাখি শিকার করছে। পরে পাখিগুলো ব্যাগ ও বস্তায় ভরে গোপনে বিক্রি করা হয়। বিলের পাখি রক্ষায় প্রশাসন ও বন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তারা এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, চলনবিলে পাখির আগমনে প্রকৃতি যেন নতুন করে সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। পাখি শিকার রোধে উপজেলা প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। শিকারের কোনো তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। পেশাদার শিকারিদের অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
এসআই/আরএন