ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বাউফলে চাল সরবরাহে বন্ধ চাতালের সাথে চুক্তি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫২ পিএম
X

পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য দীর্ঘ বছর বন্ধ থাকা চাতালের (চালকল) সাথে চুক্তিপত্র করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উৎপাদন কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও কেন এগুলোর সাথে চুক্তি করা হলো এ প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বছরের পর বছর খাদ্য গুদামে এ কার্যক্রম চলছে। অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের চাল সরবরাহের।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিক টন ও বগা খাদ্য গুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। যার প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয় ৫০ টাকা করে।

চাল সংগ্রহের জন্য পাঁচটি চাতালের সঙ্গে চুক্তি করে উপজেলা খাদ্য অফিস। চাতালগুলো হলো- সোনাই অটো রাইস মিল, সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিল।

চুক্তি অনুযায়ী, মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে উৎকৃষ্টমানের চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবারহ করবেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগা খাদ্য গুদামের চাল সংগ্রহের জন্য সোনাই অটো রাইস মিল নামে একটি চাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য চাল সরবরাহ চুক্তি করা হয়েছে সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিল মালিকের সঙ্গে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল দুটিতে কার্যক্রম চলছে। বাকি তিনটি সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিলের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেখানে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই প্রায় তিন/ চার বছর ধরে। এসব চাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, মিল ভবনে ঝুলছে তালা।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা নওপাড়া রাইস মিল থেকে চাল কিনে ২৬ মেট্রিক টন চাল বাউফলে সরবরাহ করেছেন। কাগজে কলমে স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে তার নিজস্ব চাতালে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। যে চাল গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন খাদ্য গুদামের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

এ বিষয়ে চাতাল মালিক রমেশ সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজ না করার অনুরোধ জানান।

সুচিত্রা রাইস মিলের পাশেই রয়েছে হিরোন বালা রাইস মিল। সেটিও বন্ধ। এই মিল থেকে ৫৩ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। হিরোন বালার মালিক শঙ্কর দাসও বাইরে থেকে চাল কিনে সরবরাহ করবেন বলে স্বীকার করেন। 

তিনি বলেন, 'সবাই চাল কিনে সরবরাহ করে।' অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই চাল সরবরাহ করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। 

একই এলাকায় প্যাদা রাইস মিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ। এই মিলের মালিক আবদুর রশিদ প্যাদা বলেন, 'এখন পর্যন্ত চাল সরবরাহ করিনি। মিল বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে চাল ক্রয় করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করবো।'

স্থানীয় কৃষক মো. মিল্টন প্যাদা, মো.আলমগীর, মো. ফারুক হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন কৃষক সাংবাদিকদের জানান, খাদ্য গুদামের সরবরাহকৃত চালের জন্য যদি সরকারি নিয়ম মেনে চাতাল মালিকরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে ধান কিনে নিয়ে চাতালে চাল তৈরি করে সেই চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করতেন, তাহলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেতেন। এতে কৃষি কাজে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়তো।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল্লাহ্ বলেন, 'তারা যখন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, তখন চাতালগুলো চালু ছিল।'

এমপি/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝