নতুন করে বাংলাদেশসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রি থেকে অদক্ষ শ্রমিক নেওয়ার নীতিমালা ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগ।
এই নীতিমালার আওতায় দেশটির ৩টি সেক্টরে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে সেই বিষয়ে কিছু বলেনি কর্তৃপক্ষ। এই সেক্টরগুলো অধিক পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় স্থানীয় মালয়েশিয়ানরা কাজ করে না।
সেক্টরগুলো হচ্ছে পামতেল শিল্প, প্লানটেশন ও কনস্ট্রাকশন। এসব সেক্টরের কাজ নোংরা, কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রত্যেক শ্রমিক সর্ব্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন।
শুক্রবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতোক সেরী খায়রুল দাযামি দাউদ।
তিনি আরো বলেন, বিদেশী কর্মীদের এদেশে স্থায়ী হতে দেওয়া হবে না। তাদের ১০ বছর মেয়াদি ভিসা দেওয়া হবে, যা প্রতি বছর রিনিউ করে নিতে হবে। যদি কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে এদেশে থাকার কোন সুযোগ নেই। ১০ বছর মেয়াদ শেষে তাদেরকে অবশ্যই নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে।
যে ১৫ দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া হবে সেগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, মায়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, কাজাখস্তান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত।
দাউদ আরও জানান, ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন শ্রমিক বৈধভাবে কাজ করছে। অবৈধদের রিক্যালিব্রেশন (পুনঃবৈধকরণ)-এর মাধ্যমে বৈধতার সুযোগ নিতে হবে অথবা নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। নিয়মিত অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যারা মালয়েশিয়ায় বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছেন তাদেরকে হুঁশিয়ার করে এ কর্মকর্তা বলেন, এ দেশের সংবিধান ও অভিবাসন আইন মেনেই কাজ করতে হবে। যদি এর লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে ভিসা বাতিলসহ জেল-জরিমানা এমনকি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
করোনার ছোবলে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। পাশাপাশি এখন শ্রমিক সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় লকডাউন শিথিল করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে দেশটির সরকার।
-এএম/এনএন