দিনাজপুরের কাহারোলে লীজকৃত ভিপি সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত। ২৯ ডিসেম্বর’১৯ সকাল ১১টার সময় উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুলতানপুর বাগান জামে মসজিদ ও ক্লাব মোড় দারুস সুন্নাহ আরাবিয়্যা মাদ্রাসার সভাপতি এবং উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফুল হক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপন করেন, প্রায় ৫২ বছর পূর্বে বাংলা ১৩৭৩ সনে নিম্ন বর্ণিত ১২ ব্যক্তির নামে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউপির সাহাপাড়া মৌজায় ২নং খতিয়ান ভূক্ত ১৯১ দাগে ৬.৮৮ একর জমি যা ভিপি সম্পত্তি (ক) তফশীল ভূক্ত ২০১২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতির আদেশে লীজ নম্বর উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশিত হয়। লীজ গ্রহণ পূর্বক জমির অর্জিত ফসল ব্যক্তিগত ভাবে ভোগ দখল না করে পূর্ব সুলতানপুর বাগান পাড়া দো’তলা জামে মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যয় ভার বহন করে আসছে। এছাড়াও ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত রামন্দ্রপুর ক্লাব মোড়ে দারুস সুন্নাহ আরাবিয়্যা মাদ্রাসার আংশিক ব্যয়ভার গ্রহণ করে আসছে। উক্ত জমি ১২ জন লীজ গৃহিতা হিসাবে ভোগ দখল করে আসছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর’১৯ তারিখে উক্ত ৬ দশমিক ৮৮ একর সম্পত্তি লীজ নবায়নের জন্য দরখাস্ত করলে বিধি মোতাবেক লীজ নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইউপি তহসিলদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে আসিফ রেজা (রুবেল), নেতৃত্বে তথাকথিত শশ্মান কমিটির প্রায় ৬০/৭০ জন সশস্ত্র লোকজন তাদেরকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে জানায়ে তহসিলদার ও সার্ভেয়ার নিজ অফিসে চলে আসেন। এঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। যাহার নং- ৬৩৮, তাং- ১৫/১০/১৯ইং।
প্রকাশ থাকে যে, উক্ত দাগে ১০.৩ একর সম্পত্তির মধ্যে ৬.৮৮ একর সম্পত্তি ভিপি(ক) তফসিল গেজেটভুক্ত যাহা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লীজ গৃহিতার ওয়ারিশগণ ভোগ করেন। ৩.১৫ একর সম্পত্তি নদীর ধারে মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ৪ বছর পূর্বে নদীর দক্ষিণ পূর্ব কোণে ১০/১৫ শতক সম্পত্তির উপর কালি মন্দির নির্মাণ করে এবং শশ্মান কাজে ব্যবহার করে। উক্ত শশ্মানে ১৫-২০টি পরিবারের মৃত ব্যক্তি দাহ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কোনদিন উক্ত স্থানে কোন সমাধি ছিল না এবং এখনও নাই। লীজ নবায়নের কার্যক্রম চালু থাকা কালিন তথাকথিত উক্ত শশ্মান কমিটির জনৈক সদস্য পরিমল চন্দ্র রায় কাহারোল সহকারী জজ আদালতে জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কাহারোল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বিবাদী করে ১০০/১৯ ভিত্তিহীন একটি মোকদ্দমা আনয়ন করেন।
উক্ত আদালত বিবাদীগণ যাহাতে ভিপি জমি লীজ প্রদান করতে না পারে মর্মে আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এমতাবস্থায় মন্দির কমিটির লোকজন আসিফ রেজা (রুবেল) এর নির্দেশে গত ৬ ডিসেম্বর’১৯ইং তারিখে বিরোধীয় জমিতে তাহাদের দখল প্রমাণের অপচেষ্টায় ভুয়া সমাধি বানাতে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রমিজ আলম খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে দেখেন যে, মানুষ মারা না গেলেও ভুয়া সমাধি বানানো হচ্ছে। তিনি সরকারি জমি অবৈধ দখল মুক্ত করতে ভুয়া সমাধি সরিয়ে ফেলেন। এর ফলে শশ্মান কমিটির লোকজন প্রশাসনের উপর অবৈধ চাপ প্রয়োগে হীন উদ্দেশ্যে দুই বার অযৌক্তিক মানববন্ধন করেন এবং সম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে ক্ষমতাশীল দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।
শশ্মান কমিটির লোকজন এবং প্রায় ৫২ বছর ধরে ভোগ দখলকারীদের মসজিদ ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের অসৎ উদ্দেশ্য জনসাধারণের জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সুধাংসু রায়, মো. আব্দুর রহিম, মো. নাজমুল ইসলাম (মাস্টার), মো. রেজাউল ইসলাম, মো. শাহিন ও পদ্ম রায়।
এইচএস