
মাদারীপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) উপ-পরিদর্শক ও তার প্রধান সহকারীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সর্বহারা ও চরমপন্থী দলের ২০ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে ৭ জন জামিনে ছিলেন। তারা হলেন, মোশাররফ শেখ, আশরাফ শরিফ, বজলু আকন, আজাদ মোল্লা, দবির মোল্লা, সৈকত মোল্লা ও দিপু বিশ্বাস। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বাকি ১৩ জন পলাতক। তারা হলেন, জসিম শেখ, মাছিম শেখ, মজনু মাতুব্বর, ফয়েজ শেখ, উজ্জ্বল হওলাদার, জাফর মাতুব্বর, কুব্বাস মাতুব্বর, হালিম আকন, দাদন ফকির, আমীর হোসেন শেখ, মিরাজ শিকদার, এ মে মোল্লা ও সুমন বাঘা।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসনাইন আজম খান এবং প্রধান সহকারী কামরুল আলম খান ঠাকুর মোটরসাইকেলযোগে শাখার পাড় যাওয়ার পর আসামিরা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। তারা পুলিশ পরিচয় দিলে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর মোটরসাইকেলসহ তাদের শ্রীনদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রলারে উঠিয়ে প্রথমে মোটরসাইকেলটি নদীতে ফেলে দেয় আসামিরা। এরপর প্রথমে কামরুলকে গলাকেটে হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা হাসনাইনের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। কামরুলের লাশ টুকরা টুকরা করে কেটে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরে হাসনাইনকে একইভাবে হত্যার পর তার লাশও টুকরা টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
নিহত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবুল হাসনাইন মাদারীপুর জেলায় ডিএসবির ডিআইও এবং কামরুল আলম খান ঠাকুর প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০০৭ সালের ৬ আগস্ট মাদারীপুরের রাজৈর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরাম মোল্লা ৩২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ৪ মে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।
মামলার ৩২ আসামির মধ্যে চারজন বন্দুকযুদ্ধে এবং দু'জন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জন পলাতক, জামিনে ১২ জন এবং দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস নামে এক আসামি কারাগারে আটক আছেন।
-এমএ