নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে শামুক, ঝিনুক ও জলজ জীববৈচিত্র্য নিধনের অপরাধে তিন ব্যক্তিকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নসিমন চালককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় সাড়ে তিন টন শামুক ও ঝিনুক উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সিংড়ার তাড়াশ-বারুহাস ডুবন্ত সড়কে অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হরিরামপুর এলাকার শুকচান (৪৫), পলাশবাড়ী এলাকার শাহজাহান (৫০) এবং জয়পুরহাটের হাজারাপুর গ্রামের স্বপন (৩০)। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিরামপুরের রুবেল (৩০) নামের এক নসিমন চালককে সড়ক পরিবহন আইনে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানকালে চলনবিলের জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুল রক্ষায় বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সিংড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী হোসেন আলী লেবু, সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী আব্দুল করিমসহ সংগঠনের সদস্যরা।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের শামুক, ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী কৃষিজমির মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্ষার শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কিছু ব্যক্তি বস্তাভর্তি করে এসব জলজ প্রাণী অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। এতে বিলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুল হুমকির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও জানান, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁদের সংগঠন নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, প্রশাসনের তৎপরতায় চলনবিলে লাখ লাখ পাখির আগমন ঘটেছে। সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন সব সময় সতর্ক রয়েছে।
এসআই/আরএন