ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আসামে উচ্ছেদে ঘরছাড়া ৪ হাজার বাঙালি মুসলিম
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ভারতের আসামে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকার। ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জে একদিনের অভিযানে প্রায় ৭৫০টি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এতে চার হাজারের বেশি মানুষ বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। উচ্ছেদের পর অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, সড়কের পাশের অস্থায়ী ঘর ও নদীর চরে আশ্রয় নিয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) ধুবড়ি জেলার ৯ নম্বর ব্লকের প্রায় ৬৫০ বিঘা সরকারি জমিতে এ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ভাঙতে ব্যবহার করা হয় প্রায় ৬০টি বুলডোজার।

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন আসামের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশের মহাপরিদর্শক অখিলেশ কুমার সিং এবং ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ।

জেলা কমিশনার জানান, ওই এলাকায় মোট ৮০০ বিঘা সরকারি জমি খালি করার জন্য উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘা জমিতে আপাতত অভিযান চালানো হয়নি। উচ্ছেদ হওয়া জমি শিল্প বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সেখানে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে সরকারি জমি দখল করে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। তাদের অনেকের অন্যত্র জমি ও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অনেকে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। জীবিকা, পারিবারিক স্মৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই বসতভিটা।

আশি বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, ১৯৬২ সালে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় তাদের আদি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর গোয়ালপাড়া থেকে এসে তারা আলমগঞ্জে আশ্রয় নেন। তার দাবি, শুধু তার পরিবার নয়, এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তৌজি ব্যবস্থার অধীনে নিয়মিত জমির রাজস্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন বসবাসের পর হঠাৎ উচ্ছেদের মুখে পড়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। মসজিদ, উপাসনালয় ও কবরস্থানসংলগ্ন স্থাপনা ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং পূর্বপুরুষের কবর ও দরগাহের সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। একটি দরগাহ ভাঙতে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি বুলডোজার বিকল হয়ে পড়ে। এর চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অভিযোগ, অভিযানের আগে বা পরে তাদের পুনর্বাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

আসামের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও পরিবারসংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এনডিটিভি প্রায় ৭৫০টি পরিবার উচ্ছেদের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, স্ক্রল.ইন জানিয়েছে, ৬৪০টির বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় সংবাদমাধ্যমই চার হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, আসামে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি উদ্ধারের নামে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে প্রধানত বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ আলমগঞ্জের অভিযানও রাজ্যের এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, স্ক্রল.ইন

টিআই

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝