নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। তবে আন্দোলনের পেছনে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না।”
পরিদর্শন শেষে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক, তিনিও তা চান। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পাওয়ার পক্ষেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে এবং প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, শিবু মার্কেট এলাকায় একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা আড়ালে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন, তারা যেন সাবধান হয়ে যান। ইতোমধ্যে কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ফতুল্লায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেন পোশাকশ্রমিকরা। বুধবার সকালে কাশীপুরের কাঠারপুল এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে।
সকাল সাড়ে ১১টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিবু মার্কেট ও কাঠারপুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব, ডিবি ও শিল্প পুলিশের সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ সময় জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, শ্রমিকরা বারবার সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছিলেন। জনসাধারণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। দুপুরের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার আটজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের বিসিক, কাঁচপুর ও আদমজী ইপিজেড এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এসএস/এসএস