ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনের চতুর্থ দিনে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিল্পাঞ্চলের এই চরম অস্থিরতার মুখে বর্তমানে পুরো গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন অলিগলি থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধের চেষ্টা চালিয়ে যায়। এতে মহাসড়কের এক লেনে যানবাহন চলাচল করলেও অন্য লেনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও মৌচাক এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাঙচুর শুরু করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার সকাল থেকেই ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়ক ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে টহলে রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ধাওয়া দিলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গলিগুলোতে অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে আবার মহাসড়কে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। সকাল থেকেই এমন অবস্থা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এসএ