তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘এই আন্দোলন শ্রমিকরা করছেন না, বরং পতিত স্বৈরাচাররা করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের তিন বছর পরপর মজুরি বৃদ্ধির নিয়ম অনুযায়ী সরকার গত কয়েক দিন ধরেই কাজ করছিল। এরই মধ্যে রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ সরকার শ্রমিকবান্ধব। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শ্রমিক সংগঠন চলমান অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার কঠোরভাবে দমন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার কোনো কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গার্মেন্টস মালিকও চলমান অস্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি তিনি।
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক অনেক নেতাকর্মী ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন। তারা যদি চান, আজই এন্ট্রি নিতে পারেন। তাদের ফেরত আনতে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করে তারা তাদের পলাতক নেতাকর্মীদের বুস্টআপ করতে চাইছেন।’
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি চলছে।
গত রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, যানবাহনে ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হচ্ছে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে।
বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করবে এ বোর্ড।
এদিকে, সোমবারের বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাস এবং গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এফএস