ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বক্তব্য না দিয়ে পরমাণু পরিদর্শনসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে হবে তেহরানকে।
টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে ফক্স নিউজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক রিপাবলিকান ভোটারের প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের হতাশা তিনি বোঝেন। ইরাকে নিজের সামরিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত সাত মাস ধরে কোনো না কোনোভাবে ইরান পরিস্থিতিতে জড়িত। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের ইতিহাস ৪৭ বছরের। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হতে দেবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের পর প্রশাসন অন্যান্য অগ্রাধিকারের দিকে মনোযোগ দেবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, ইরানকে অন্য দেশকে দোষারোপ না করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) চাওয়া তথ্য ও পরিদর্শনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
ইরানের প্রতিনিধিদলকে উদ্দেশ করে ওয়াল্টজ বলেন, আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানের কাছে বক্তব্য নয়, প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদাররা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে একই বৈঠকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, ২০২৫ সালের জুনে সামরিক হামলার কারণে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ইরানে সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছিল। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণে সংস্থার কর্মীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গ্রোসি বলেন, ইরানের ইসফাহান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় পরিদর্শকদের প্রবেশের বিষয়ে আগে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হামলা শুরু হওয়ায় সেখানে পরিদর্শন সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যক্রম তাদের নজরে আসেনি। তবে স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে সরাসরি পরিদর্শন জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে একদিকে ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত না করার বার্তা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, অন্যদিকে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি ও পরিদর্শনের দাবি অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এফএস