হরমুজ প্রণালির পূর্ব আকাশে একটি এমকিউ-১ ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ বাহিনীটির বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এ নিয়ে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪টি এমকিউ-১ ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পূর্ব আকাশে সিরিক উপকূলীয় এলাকার বিপরীতে সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে।
এমকিউ-১ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি মনুষ্যবিহীন আকাশযান। তবে ড্রোনটির পরিচালনাকারী কে ছিল, সে বিষয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা ইঙ্গিতের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
মঙ্গলবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে বলেছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে নির্বাচনের পর বড় ধরনের হামলার দিকেই তাঁর ঝোঁক রয়েছে।
চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ তৈরির লক্ষ্যে জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক পরে ভেস্তে যায়। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। তবে আগুন লাগার কারণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি সংস্থাটি। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইউকেএমটিও জানায়, অন্য একটি জাহাজের মাস্টারের কাছ থেকে তারা এ ঘটনার খবর পেয়েছে। ওমানের খাসাব থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তরে প্রণালির ঠিক বাইরে জাহাজটিকে দেখা গেছে।
বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান। অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের অভিযোগে বিভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ডন
-টিএস