বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরীর উদ্যোগে গাজার অসহায় শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় এক লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সংগৃহীত অর্থ গাজার শিশুদের জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কাজে ব্যয় করা হবে।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হামজা লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য এক লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।” এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া দাতা, সমর্থক ও অন্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা নুজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে এ দাতব্য আয়োজন করেন হামজা। গত রোববার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হামজাকে নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় দাতব্য নিলাম। নিলামে মুসলিম অ্যাথলেটদের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক তোলা হয়।
নিলামে হামজার ফুটবল ক্যারিয়ারের স্মারকগুলো বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জয়ের জার্সিটি বিক্রি হয় ৭ হাজার পাউন্ডে। আর কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদক বিক্রি হয় ৩ হাজার পাউন্ডে। অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি ও নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের সংস্থাটিকে।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় ব্যয় হবে পুরো অর্থসংগৃহীত অর্থ কীভাবে কাজে লাগানো হবে, ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তা ব্যাখ্যা করেছেন হামজা। তিনি জানান, গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছে ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’। এসব শিশুর অনেকের জন্য উন্নত চিকিৎসা পেতে বিদেশে কিংবা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হওয়া বেঁচে থাকার একমাত্র সুযোগ।
হামজার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত পুরো অর্থ প্রয়োজনীয় শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
তবে এই তহবিল সংগ্রহের সাফল্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও গাজার শিশুদের দুর্ভোগের তুলনায় উদ্যোগটিকে সীমিত অবদান হিসেবেই দেখছেন তিনি। হামজা বলেন, অল্প সময়ে এত অর্থ সংগ্রহ করতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞ ও বিনীত। তবে এত বড় মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিটি উদ্যোগই- তা যত ছোটই হোক- পরিবর্তন আনতে পারে।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত নুজুম স্পোর্টস পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা, ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষায় কাজ করে। অন্যদিকে, ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ গাজার শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গাজার মানবিক সংকটের মধ্যে উদ্যোগগাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে হামজার এ উদ্যোগ সামনে এল। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় সেখানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধের সূচনা হয়।
মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন হামজা। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না। জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি জানিয়েছেন, ৯ নভেম্বর থেকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন হামজা। সে ক্ষেত্রে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাঁকে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ দল।
-টিএস