পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাট ও সংলগ্ন নদী এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর পর্যটকদের নৌবিহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নদীতে দুর্ঘটনা এড়ানো এবং পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পিলার এলাকা এবং শিমুলিয়া ঘাটের নৌনিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের অনেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে করে সেতুর পিলারসংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। কেউ কেউ নদীতে গোসল করতেও নামেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত তিন বছরে ওই এলাকায় চারটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত সোমবার পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নেমে আট পর্যটকের মধ্যে দুজন নিখোঁজ হন। পরে মঙ্গল ও বুধবার তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে নদীপথে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর পর্যটকবাহী নৌযানে ঘোরাফেরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।
পরিদর্শনকালে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে পদ্মা সেতু এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঝুঁকিপূর্ণ চর ও পিলারসংলগ্ন এলাকায় যাতে কেউ না যান, সে জন্য আরও বড় ও দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন, মাইকিং এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন ইউএনও।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার এবং নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নামা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফএস