মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বছরে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালে এ দাম ছিল গড়ে ৬৯ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। অন্যদিকে, উচ্চমূল্য ও সরবরাহসংকটের কারণে তেলের চাহিদাও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে।
খাদ্যপণ্যের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে, ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ এবং শিল্পধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দামও নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়ায় এসব ধাতুর দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়া ও এল নিনোর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যসংকট ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি না হলে ২০২৭ সালে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ৭ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবু জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্স / এফএস