রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সাত শিক্ষকসহ নয়জনের বেতন-ভাতার বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। অনুমোদিত পদ পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করা এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন অসংগতির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউজিসির বাজেট মূল্যায়নসংক্রান্ত নথিতে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের সময়ে অনুমোদিত পদ পরিবর্তন করে অন্য বিভাগে এবং উচ্চ পদের বিপরীতে নিম্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইউজিসির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী নির্দিষ্ট গ্রেডে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে মো. আবদুল হালিমকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগে অধ্যাপক পদের বিপরীতে মো. মতিউর রহমান চৌধুরীকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে মুহাম্মদ ফররুখ রহমানকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একইভাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক পদের বিপরীতে মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারীকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের নজরে এসেছে।
এ ছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগে আবদুল্লাহ আল মামুন ও জিএম সেলিম আহমেদকে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউজিসি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক পদে এস এম রেজাউল করিম এবং উপ-রেজিস্ট্রার পদে মো. জানে আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাঁদের নিয়োগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর পঞ্চম গ্রেড প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েও আপত্তি রয়েছে।
ইউজিসির সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পদগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ স্থগিত রাখার কথা। তবে মানবিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের বেতন পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে।
এফএস