ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় মাদরাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ও অন্যদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে লুট হওয়া অর্থ ও মালামালের পরিমাণ ৭৭ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর রাতে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বড় ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা সহকারী মো. উমায়ের।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদরাসা’র ১৩ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ও মালিক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শিশুটির দাদা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী তোফাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ধর্ষণ মামলার পর মাদরাসা ভাঙচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলাটি করা হয়। এতে ধর্ষণ মামলার বাদীসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখান থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়। এসব অর্থ ও মালামালের মোট মূল্য ৭৭ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে লুট হওয়া অর্থ ও মালামালের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, পাল্টা মামলার ঘটনায় ধর্ষণ মামলার বাদীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পাল্টা মামলার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
এফএস