গাজীপুরের গাছা এলাকায় একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা। পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত শিশুটি। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩)। মামলার অন্য দুই আসামি মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর ছেলেকে মাদ্রাসায় রেখে আসেন তিনি। ছয় দিন পর, ১৩ অক্টোবর দুপুরে ছেলে বাসায় খেতে এলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে ব্যথার কথা জানায়। ব্যথার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা মাকে জানায় শিশুটি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর রাত ১টার দিকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে জাগিয়ে স্টোররুমে নিয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তী দুই রাতেও একই স্থানে নিয়ে তাকে নিপীড়ন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করলে শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা।
ঘটনার কথা জানার পর মাদ্রাসায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন শিশুটির মা। তবে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির মায়ের এক পরিচিত নারীর ১০ বছর বয়সী ছেলেও ওই মাদ্রাসায় পড়ত। ওই শিশুও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী। এ ছাড়া মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এজাহার অনুযায়ী, শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিশুটির মা।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
-টিএস/রফিক