আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের হার দিয়ে হতাশার ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, বড় জুটি গড়তে না পারা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ধরে রাখতে না পারার মাশুল দিতে হয়েছে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই। দুই ম্যাচে দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠা তো দূরের কথা, কোনো ম্যাচেই দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ছাপ রাখতে পারেনি টাইগাররা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১.২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই তিন উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন, আর হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত ৩৬ রান করেন। এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আফগানরা।
শুরুতেই ধস, ইমন-সাইফের লড়াই বৃথা
বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ থাকলেও শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দল। তানজিদ হাসান ১, সৌম্য সরকার শূন্য, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে ফিরে যান।
এমন বিপর্যয়ের মধ্যে পঞ্চম উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখান। ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭০ রান করেন, সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১ রান।
কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ ছয় উইকেট হারাতে দল যোগ করতে পারে মাত্র ৩৯ রান। চার ব্যাটার ফেরেন শূন্য রানে। ইমন ও সাইফ ছাড়া আর কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান চার উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। রশিদের স্পিন সামলাতে না পারা এবং ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানো বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।
শুরুতে উইকেট, পরে নিয়ন্ত্রণ হারানো
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে আফগানিস্তানও। তাসকিন আহমেদ রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ এবং সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা দেখান।
তবে এরপর ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর জুটি বাংলাদেশের আশা কমিয়ে দেয়। ইব্রাহিম ৩৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হলেও রহমত ও শহীদি বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন। রহমতের অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসে ৩৫.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সাফল্য পেলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নিতে পারেননি। ছোট লক্ষ্য হওয়ায় আফগান ব্যাটারদের ওপর কার্যকর চাপও তৈরি করা যায়নি। তাসকিন দুটি এবং মুস্তাফিজ একটি উইকেট নেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হার
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই পরাজয় পুরো সিরিজের ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭২ রানে। ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দলের হতাশাজনক অভিযান।
অন্যদিকে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। সেদিকউল্লাহ অটলের ১০২ ও ইব্রাহিম জাদরানের ৯০ রানের ইনিংসের পর রশিদ খানের বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং।
দুই ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা, দ্রুত উইকেট হারানো এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে ব্যর্থ হওয়া সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল দল। কোনো ম্যাচেই ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ একসঙ্গে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের চোট বাংলাদেশের জন্য ধাক্কা ছিল। তাঁর পরিবর্তে সিরিজে সুযোগ পাওয়া ইমন শেষ ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পুরো দলের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা হতে পারে না।
টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, চাপের মুখে ইনিংস গড়ে তুলতে না পারা, গুরুত্বপূর্ণ জুটির অভাব এবং বোলিংয়ে সাফল্য ধরে রাখতে না পারা সব মিলিয়ে দলীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ২৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। আর বাংলাদেশকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।
এই সিরিজে ইমন-সাইফের জুটি কিংবা তাসকিনের শুরুর সাফল্য ছিল কিছু ইতিবাচক দিক। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়। ধারাবাহিক ব্যাটিং, কার্যকর বোলিং এবং চাপের মুহূর্তে দলীয় দায়িত্ব পালনে উন্নতি করতে না পারলে বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক ফলের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এসএস
বিপর্যয়, বোলিংয়ে ব্যর্থতা: ত্রিদেশীয় সিরিজে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের হার দিয়ে হতাশার ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, বড় জুটি গড়তে না পারা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ধরে রাখতে না পারার মাশুল দিতে হয়েছে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই। দুই ম্যাচে দুই পরাজয়ে ফাইনালে ওঠা তো দূরের কথা, কোনো ম্যাচেই দলীয় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ছাপ রাখতে পারেনি টাইগাররা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১.২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই তিন উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। অধিনায়ক রহমত শাহ ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন, আর হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত ৩৬ রান করেন। এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আফগানরা।
শুরুতেই ধস, ইমন-সাইফের লড়াই বৃথা
বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ থাকলেও শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় দল। তানজিদ হাসান ১, সৌম্য সরকার শূন্য, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে ফিরে যান।
এমন বিপর্যয়ের মধ্যে পঞ্চম উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখান। ইমন ৯৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৭০ রান করেন, সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১ রান।
কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আবারও ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ ছয় উইকেট হারাতে দল যোগ করতে পারে মাত্র ৩৯ রান। চার ব্যাটার ফেরেন শূন্য রানে। ইমন ও সাইফ ছাড়া আর কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান চার উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। রশিদের স্পিন সামলাতে না পারা এবং ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানো বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।
শুরুতে উইকেট, পরে নিয়ন্ত্রণ হারানো
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে আফগানিস্তানও। তাসকিন আহমেদ রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ এবং সেদিকউল্লাহ অটলকে ৪ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা দেখান।
তবে এরপর ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহর জুটি বাংলাদেশের আশা কমিয়ে দেয়। ইব্রাহিম ৩৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হলেও রহমত ও শহীদি বাকি কাজ সহজেই শেষ করেন। রহমতের অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসে ৩৫.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সাফল্য পেলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নিতে পারেননি। ছোট লক্ষ্য হওয়ায় আফগান ব্যাটারদের ওপর কার্যকর চাপও তৈরি করা যায়নি। তাসকিন দুটি এবং মুস্তাফিজ একটি উইকেট নেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হার
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই পরাজয় পুরো সিরিজের ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭২ রানে। ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দলের হতাশাজনক অভিযান।
অন্যদিকে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। সেদিকউল্লাহ অটলের ১০২ ও ইব্রাহিম জাদরানের ৯০ রানের ইনিংসের পর রশিদ খানের বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং।
দুই ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা, দ্রুত উইকেট হারানো এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে ব্যর্থ হওয়া সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল দল। কোনো ম্যাচেই ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ একসঙ্গে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।
নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের চোট বাংলাদেশের জন্য ধাক্কা ছিল। তাঁর পরিবর্তে সিরিজে সুযোগ পাওয়া ইমন শেষ ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পুরো দলের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা হতে পারে না।
টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, চাপের মুখে ইনিংস গড়ে তুলতে না পারা, গুরুত্বপূর্ণ জুটির অভাব এবং বোলিংয়ে সাফল্য ধরে রাখতে না পারা সব মিলিয়ে দলীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ২৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। আর বাংলাদেশকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।
এই সিরিজে ইমন-সাইফের জুটি কিংবা তাসকিনের শুরুর সাফল্য ছিল কিছু ইতিবাচক দিক। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়। ধারাবাহিক ব্যাটিং, কার্যকর বোলিং এবং চাপের মুহূর্তে দলীয় দায়িত্ব পালনে উন্নতি করতে না পারলে বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক ফলের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
এসএস