প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তাই নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে, জনগণের ভোটে জয়ী হবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউয়ে বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের এ বার্তা দেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাড়ে ৪০০ নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতাকর্মীদের আরও সজাগ থাকতে হবে। সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে ৫০ ভাগ অপরাধ কমে যাবে। নিজেদেরও কোনও অপরাধে জড়ানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। এ সময়ে অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের বাধা ও চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ ও অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে এবং এ অবস্থায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে সবাইকে একটি জায়গায় আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই সবাইকে এক সঙ্গে বসে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতি মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টিআই