ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড, তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশকে আগে জানানো হয়েছিল কি না। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের বিষয়েও বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দোভাষীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য আদালতে শুনানির সময় অনুবাদের কাজে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ নামের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। এসব আদালতে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে অনুবাদক দেওয়া হয় না। ফলে আসামিপক্ষের বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে আটক দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চাওয়ার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ একটি তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। তবে তাদের সাজার মেয়াদ উল্লেখ ছিল না।

আটক দুই বাংলাদেশি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সুইটি আক্তার। তারা দুজনই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

কনস্যুলেটের কাছে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সাইবার অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। তিনি জেদ্দা সংশোধনাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তথ্য তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে সুইটি আক্তারকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। তিনি জেদ্দা মহিলা কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও রায় হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

তালিকার ৭ নম্বর কলামে রায়প্রাপ্ত বন্দিদের সাজার বিবরণ দেওয়ার কথা থাকলেও এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। কনস্যুলেটের ভাষ্য, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ ও জেনা-ব্যভিচারের অভিযোগে কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির আগে ছিল না।

আইনি সহায়তা ও দোভাষী নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশে আটক নাগরিকদের অধিকার ও তাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ভিয়েনা কনভেনশনের আলোচনাতেও আসে। এই কনভেনশন অনুযায়ী, বিদেশে আটক নাগরিকের সঙ্গে দেখা করা, তার মামলার নথি পাওয়া এবং তাকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অধিকার কনস্যুলেটের রয়েছে।

কিন্তু জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আদালতগুলোতে শুনানির সময় অনুবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হলেও বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে অনুবাদক দেওয়া হয় না। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে আসামিপক্ষের যুক্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের তালিকায় দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে রায় হওয়ার তথ্য থাকলেও সাজার মেয়াদ ছিল না। তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা কার্যকরের বিষয়েও বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটকে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।

কনস্যুলেট আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য গুরুতর অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয়। পরিবার সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলে আবেদন করতে পারে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়।

তবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কোনও আবেদন করা হয়নি। তাঁদের পরিবারের কেউ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কনস্যুলেটের কাছে থাকা বন্দিদের তালিকায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক মোট ৩০৬ জন বাংলাদেশির তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। সাজার মেয়াদ সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর।

এ ছাড়া মক্কায় সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তাদের মামলার বিস্তারিত তথ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় দোভাষীর সুযোগ এবং সাজা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement