ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
কাপ্তাইয়ে পরিত্যক্ত পাহাড়ি জমিতে সৌরবিদ্যুতের বিপ্লব, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

পরিত্যক্ত পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে রাঙামাটির কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। উৎপাদিত বিদ্যুতের বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ের জমিতে গড়ে ওঠা এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রমাণ করেছে, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে অনাবাদি জমিকেও মূল্যবান জ্বালানি সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে নির্মাণ করা হয় ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

একসময়ের পরিত্যক্ত জমিতে এখন সারি সারি সৌর প্যানেল। এসব প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অবদান রাখছে। তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয় এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির কারণে প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এটি অনেক লাভজনক একটি প্রকল্প। এখানে জনবল ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম। রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া খারাপ থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমে যায়, তবে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না-
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের অব্যবহৃত জমিতে এ ধরনের প্রকল্পের সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সংযোজনের পাশাপাশি নতুন ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন  প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের ব্রিকফিল্ড এলাকায় নতুন ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কাপ্তাইয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিধি আরও বাড়বে এবং জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে কাপ্তাইয়ের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য উপযুক্ত ও অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বৃহৎ পরিসরে সোলার পার্ক স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জমির উপযুক্ততা, পরিবেশগত প্রভাব, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।

তিন পার্বত্য জেলায় সৌরবিদ্যুতের বিশাল সম্ভাবনা--বাংলাদেশের এক-দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়ি এ অঞ্চলের উপযুক্ত অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমি পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্য পাহাড়ি অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে পাহাড়ের সব জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পাহাড়ের অব্যবহৃত জমি হয়ে উঠতে পারে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement