ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
শীতের সবজি গ্রীষ্মে চাষ, বাঁধাকপিতে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন মিরপুরের কৃষক
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

 সবজি বাঁধাকপি। সাধারণত শীতের মৌসুমেই এই সবজির চাষ ও উৎপাদন বেশি হয়। কিন্তু প্রচলিত সেই ধারণা বদলে দিয়ে গ্রীষ্মকালেই বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার দুই কৃষক সেন্টু আলী ও তুহিন আলী। আগাম জাতের বাঁধাকপি চাষ করে তাঁরা যেমন নিজেদের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, তেমনি এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন নতুন ফসল চাষের আগ্রহ।

মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের এই দুই কৃষক পাঁচ বিঘা জমিতে ‘গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস’ জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করেছেন। মৌসুমের আগেই বাজারে বাঁধাকপি তুলতে পারায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। তাঁদের ক্ষেতের ফলন দেখে আশপাশের কৃষকেরাও আগাম বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষক তুহিন আলীর কাছে গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ ছিল সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ। শীতের সবজি গ্রীষ্মের বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই তিনি ও তাঁর ভাই সেন্টু আলী এই চাষে মনোযোগ দেন।
তুহিন আলী জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করতে তাঁদের খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে মোট বিক্রি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
তাঁর হিসাবে, প্রত্যাশিত দামে সবজি বিক্রি করতে পারলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। তবে বাজারদর, ফলনের পরিমাণ ও বিক্রির অন্যান্য খরচের ওপর প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে।

তুহিন আলী বলেন, ‘শীতের সবজি গ্রীষ্মের বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে, এমন আশা থেকেই বাঁধাকপি চাষ করেছি। প্রথম দিকে গ্রীষ্মকালে এই ফসলের ফলন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন পেয়েছি। সেচ ও সারের খরচও তুলনামূলক কম হওয়ায় এই চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখছি।’
আগাম বাঁধাকপি চাষে আশানুরূপ ফল পেলে আগামী বছর অন্য ফসলের আবাদ কিছুটা কমিয়ে বাঁধাকপির চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

কৃষিতে লাভবান হতে হলে শুধু বেশি ফলন পেলেই চলে না, কোন সময়ে কোন ফসল বাজারে তোলা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সবজি মৌসুমে বাজারে বেশি সরবরাহ থাকলে দাম কমে যেতে পারে। অন্যদিকে আগাম উৎপাদন বাজারে তুলতে পারলে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
মিরপুরের এই দুই কৃষকের উদ্যোগেও রয়েছে সেই সম্ভাবনা। শীতকালীন সবজির স্বাভাবিক মৌসুম শুরুর আগেই বাঁধাকপি উৎপাদন করে তাঁরা বাজার ধরতে চাইছেন। অক্টোবরেই আগাম জাতের বাঁধাকপি বাজারে আসতে শুরু করায় স্থানীয় সবজি চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় এবার নভেম্বরের আগেই অক্টোবর মাসে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। সেন্টু আলী ও তাঁর ভাই তুহিন আলীসহ খাঁড়ারা ব্লকের অনেক কৃষক এই চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

নতুন ফসল চাষে আগ্রহ থাকলেও অনেক সময় সঠিক জাত নির্বাচন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষ করে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে কোনো ফসল চাষ করতে গেলে ঝুঁকির বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মিরপুরের এই দুই কৃষকের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষে শুরু থেকেই পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।
মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘কৃষক সেন্টু আলী ও তাঁর ভাই তুহিন আলী এবার পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। আমরা চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত তাঁদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছি। এখন ফলন ভালো হওয়ায় গ্রামের অন্য কৃষকদের মধ্যেও বাঁধাকপি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।’

কৃষি বিভাগের এ ধরনের সহযোগিতা কৃষকদের নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমাতেও সহায়ক হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বাজারদরের ওঠানামার কারণে কৃষকদের লাভ ধরে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে ফসল নির্বাচন এবং উপযুক্ত সময়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা কৃষকের আয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

মিরপুরের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের সেন্টু আলী ও তুহিন আলীর গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ। পাঁচ বিঘা জমিতে তাঁদের উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্য কৃষকেরাও নতুন করে এই চাষে আগ্রহী হতে পারেন।

তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারে বিক্রির দাম এবং ভবিষ্যতে একই ফসলের চাষ কতটা বাড়ছে, তার ওপর। কৃষকেরা যাতে ন্যায্য দাম পান, সে জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

শীতের সবজি বাঁধাকপি গ্রীষ্মে ফলিয়ে মিরপুরের এই দুই কৃষক দেখিয়েছেন, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও কারিগরি পরামর্শ। তাঁদের পাঁচ বিঘা জমির বাঁধাকপি এখন শুধু আয়ের প্রত্যাশা নয়, এলাকার অন্য কৃষকদের জন্যও নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ।
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement