কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রায় ৪০০ বিজ্ঞানী ও গবেষক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এআই গবেষণার পথিকৃৎ জিওফ্রে হিন্টন ও ইয়োশুয়া বেঙ্গিও।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে বিজ্ঞানীরা উন্নত এআই ব্যবস্থার জন্য শিল্পখাতজুড়ে অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য সংরক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁদের মতে, সাইবার হামলায় সক্ষম উন্নত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
চিঠিতে বলা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলোকে বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে এবং স্বাধীন তদারকির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, এআই নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে।
৩৪টি দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁরা সরকারগুলোকে আনুষ্ঠানিক তদারকি কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি এআই নির্মাতা ও পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের এক মাস আগে অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল, মেটা, এক্সএআই ও এনভিডিয়াসহ কয়েকটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হোয়াইট হাউসের একটি স্বেচ্ছামূলক নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করে। তবে ওই চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রয়োগব্যবস্থা নেই।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরকুনেন রয়টার্সকে বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইইউর এআই আইন যথেষ্ট।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি মার্কিন গবেষণাগারগুলোকে নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের এআই সেফটি ইনস্টিটিউটকে আগাম মডেল-প্রবেশাধিকার দেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
২০১৮ সালে হিন্টন ও বেঙ্গিওর সঙ্গে টুরিং পুরস্কার পাওয়া ইয়ান লেকুন অবশ্য এই খোলা চিঠিতে সই করেননি। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো মূলত প্রকৌশলগত ত্রুটির ফল; এগুলোকে এআইয়ের অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
সূত্র: রয়টার্স
এসএস