শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। তবে, জেরার সময় প্রয়োজন হলে তিনি মোবাইল ফোনে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। জিয়াউল আহসানের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরার প্রথম দিন ছিল। শুনানির শুরুতেই কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন জিয়াউল আহসান।
ট্রাইব্যুনালের এজলাসের দুই পাশে থাকা বড় মনিটরে জিয়াউল আহসানকে দেখা যায়। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, বিচারক, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে থাকা কম্পিউটারেও তাকে দেখা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরুর আগে জিয়াউল আহসানের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার আবেদনের শুনানিতে জানান, এর আগে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে একা আনা-নেওয়ার পরিবর্তে অন্যদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার বিষয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করতে চান তারা। তাকে একা আনা-নেওয়া করা হলে তাদের আপত্তি নেই।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, গত ৮ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির সময় তারা বিকেলে আদেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন বিকেলেই জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
জবাবে আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, তারা ওই আদেশের অনুলিপি পাননি। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আদেশের বিষয়ে জানতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী কার্যদিবসের শুরুতে আগের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানান তিনি। শুনানি চলাকালে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে হাজির থাকতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর জিয়াউল আহসানকে ভার্চুয়ালি যুক্ত রেখে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা হয়।
এ সময় নাজনীন নাহার বলেন, জিয়াউল আহসান সশরীর ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত না থাকলে জেরার সময় সম্পূরক প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তার পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হবে না।
পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন, জেরা চলাকালে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা জিয়াউল আহসান তার আইনজীবীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারবেন। এ জন্য ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর কাছে একটি মোবাইল ফোন থাকবে। আসামির কোনো প্রয়োজন হলে তিনি ওই ফোনে আইনজীবীকে কল দিতে পারবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও জিয়াউল আহসান ও তার আইনজীবী কথা বলতে পারবেন। এ জন্য সিম সরবরাহ করবে আসামিপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের শুনানি চলাকালে তারা কথা বলতে পারবেন।
এছাড়া শুনানির দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জিয়াউল আহসান তার আইনজীবীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে পারবেন। ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় জিয়াউল আহসান হাত তুললে তাকে ট্রাইব্যুনালে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান। এ সময় জিয়াউল আহসান কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।
টিআই