আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ১৬টি নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ এবং সদরঘাট টার্মিনাল হকারমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা
নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত: সব নদীবন্দর ও ঘাট থেকে যাত্রীদের নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
পন্টুন ব্যবহার বাধ্যতামূলক: টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ওঠানামা বন্ধ: লঞ্চের পেছনে বা পাশে কিংবা নদীর মাঝপথে নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।
ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন: সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ: যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সদরঘাটে শৃঙ্খলা: লঞ্চের রুট ও ছাড়ার পন্টুনের তথ্য দৃশ্যমানভাবে প্রচার এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে।
রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ: রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।
স্পিডবোটে নিরাপত্তা: দিনের বেলায় নদীর মাঝখান দিয়ে স্পিডবোট চালানো যাবে না এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে হবে।
যাত্রীসেবা উন্নত করা: নদীবন্দরগুলোতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন, মোবাইল ফোন চার্জিং ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধা: নারী, শিশু, স্তন্যদানকারী মা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্ধারব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা: নৌদুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখতে হবে।
অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত: গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ফিটনেসবিহীন নৌযান বন্ধ: ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
সদরঘাট হকারমুক্ত রাখা: সদরঘাট টার্মিনাল ও পন্টুন হকার এবং ক্যানভাসারমুক্ত রাখতে হবে।
ফেরি ও নৌ-চ্যানেলের নিরাপত্তা: ফেরিরুট ও অন্যান্য নৌ-চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে হবে, অনুমোদিত সংখ্যক যানবাহন ফেরিতে ওঠাতে হবে এবং ফেরিতে ওঠার সময় চালক ছাড়া অন্য যাত্রীদের যানবাহন থেকে নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আবহাওয়া সংকেত অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে নৌযান চালাতে হবে।
জরুরি হটলাইন প্রচার: লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে জরুরি সেবার চারটি হটলাইন নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও প্রচার করতে হবে:
- জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯
- ফায়ার সার্ভিস: ১০২
- বিআইডব্লিউটিএ যাত্রীসেবা: ১৬১১৩
- কোস্টগার্ড: ১৬১১১
এফএস