ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ এএম
প্রতীকী ছবি
X
Advertisement

প্রতীকী ছবি

‎
‎
‎আজ ১৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সহনশীলতা শুরু হোক ঘর থেকেই’। নিরাপদ আবাসন, ঝুঁকিসহিষ্ণু অবকাঠামো এবং পরিবারভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের প্রতিপাদ্যে।
‎
‎জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে ১৩ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। তাই দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং নিরাপদ বসতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‎
‎
‎ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, বজ্রপাত ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ নিয়মিতভাবে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করে। উপকূলীয় অঞ্চল, হাওরাঞ্চর, নদীতীরবর্তী এলাকা এবং পাহাড়ি জনপদে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
‎
‎আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময় দুর্যোগজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় এ ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ।
‎
‎বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকেন। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং নদীর পানি বৃদ্ধি উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব দুর্যোগে ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়; ব্যাহত হয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
‎
‎
‎দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং উদ্ধার ও ত্রাণব্যবস্থায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সতর্ক করা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‎
‎জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৫-২০৩০ সময়কালের জন্য বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদারে একটি জাতীয় রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এতে আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস উন্নত করা, সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং দুর্যোগের আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‎
‎তবে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই ঘরবাড়ি ও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব রয়েছে। সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা গবাদিপশু ও সম্পদ ফেলে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে দেরি করেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো দুর্যোগে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
‎
‎
‎বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শুধু তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিত বসতি নির্মাণ, ভবন নির্মাণবিধি কার্যকর করা, নদী ও বাঁধের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মহড়া, সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও স্বেচ্ছাসেবক দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
‎
‎পরিবার পর্যায়েও দুর্যোগ প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি যোগাযোগের নম্বর, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, টর্চলাইট ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা থাকা দরকার। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
‎
‎দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর সতর্কবার্তা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল বার্তাও তাই -নিরাপদ পরিবার, সহনশীল অবকাঠামো ও সচেতন জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার মাধ্যমেই দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।
‎
‎
‎ এফএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement