ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জমিদারবাড়ি থেকে থিমের মণ্ডপ: বিবর্তনের ধারায় দুর্গোৎসব
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
X
Advertisement

শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের শব্দ বাঙালির কাছে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা যেন প্রকৃতির নিজস্ব ভাষায় লেখা এক চিঠি। এই চিঠিতে রয়েছে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের আনন্দ, অশুভ শক্তির বিনাশের প্রত্যয়, পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাস এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিতভাবে উৎসব উদযাপনের গল্প।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গোৎসবের চেহারাও বদলেছে। একসময় পূজামণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, ধুনুচি নাচ ও চণ্ডীপাঠই ছিল উদযাপনের প্রধান অনুষঙ্গ। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থিমভিত্তিক মণ্ডপ, আধুনিক আলোকসজ্জা, ডিজিটাল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। কোথাও কোথাও যুক্ত হয়েছে ড্রাম, ডিজে ও ব্যান্ডসংগীতের পরিবেশনাও। ফলে দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার পালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিল্প-সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ইতিহাসের পথ ধরে দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজার ইতিহাস ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক ঐতিহ্য ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেন। এই কাহিনি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গা তাই শক্তি, সাহস, ন্যায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেরও প্রতীক।

বাংলায় দুর্গাপূজার প্রাচীন ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে মধ্যযুগের শেষভাগ ও পরবর্তী সময়ে বাংলার অভিজাত পরিবারগুলোতে দুর্গাপূজার প্রসার এবং আঠারো শতকে কলকাতাকে কেন্দ্র করে এর সামাজিক গুরুত্ব বৃদ্ধির ইতিহাস বিশেষভাবে আলোচিত। সে সময় অনেক জমিদার ও বিত্তশালী পরিবারে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজা সামাজিক মর্যাদা, সম্পদ ও প্রভাব প্রদর্শনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

সেই সময়ের পূজায় পারিবারিক আভিজাত্য, অতিথি আপ্যায়ন, সংগীত, নৃত্য ও নানা সামাজিক আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পূজার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা নির্দিষ্ট অভিজাত পরিবারের নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকত।

পরবর্তী সময়ে বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার প্রসার দুর্গোৎসবের সামাজিক চরিত্রে বড় পরিবর্তন আনে। একক পরিবারের আঙিনা থেকে পূজা ক্রমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত আয়োজনে পরিণত হয়। চাঁদা সংগ্রহ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, পাড়া বা মহল্লাভিত্তিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত ব্যবস্থাপনা উৎসবকে আরও জনমুখী করে তোলে।

পারিবারিক পূজা থেকে সর্বজনীন উৎসব

একসময় দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ি ও সচ্ছল পরিবারের অন্দরমহল। প্রতিমা নির্মাণ, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, ভোগের আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়ন সবকিছুর মধ্যেই থাকত পারিবারিক ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছাপ।

কিন্তু সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজনেও এসেছে নতুন মাত্রা। নগরায়ণ, মানুষের স্থানান্তর, মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারের ফলে পূজা হয়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লার মানুষের মিলনমেলা। স্থানীয় সংগঠন, ক্লাব, পূজা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অসংখ্য সর্বজনীন মণ্ডপ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বহুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দর্শনার্থীদের সমাগম।

এখন পূজামণ্ডপ শুধু প্রতিমা দর্শনের স্থান নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি এলাকার সম্মিলিত পরিচয় ও সৃজনশীলতারও প্রকাশ। কোন মণ্ডপের সাজসজ্জা অভিনব, কোথায় ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম দেখা যাচ্ছে কিংবা কোন আয়োজন দর্শনার্থীদের বেশি আকৃষ্ট করছে এসব নিয়ে তৈরি হয় উৎসবের বাড়তি আগ্রহ। কখনো কখনো এই আগ্রহ প্রতিযোগিতার রূপও নেয়।

ফলে দুর্গাপূজা ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার এক বিস্তৃত ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

ঢাকের তালে আধুনিকতার ছোঁয়া

দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ঢাক। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, কাঁসর-ঘণ্টা ও ধুনুচি নাচ উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহ তৈরি করে। তবে সময়ের সঙ্গে উদযাপনে যুক্ত হয়েছে আধুনিক গান, ড্রাম, ব্যান্ডসংগীত এবং কোথাও কোথাও ডিজের আয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে উৎসবের প্রকাশভঙ্গিতে এসেছে নতুনত্ব।

আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও সংগীতের ব্যবহার নিয়ে অবশ্য মতভেদও রয়েছে। অনেকের মতে, পূজার নিজস্ব আবহ বজায় রাখতে ঢাক, শঙ্খ ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতের গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের রুচি ও সৃজনশীলতাকে জায়গা দেওয়াও সময়ের স্বাভাবিক দাবি। বিশেষ করে বিসর্জনের শোভাযাত্রা ও মণ্ডপের বাইরের আনন্দ-আয়োজনে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অনেকের কাছে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

তবে প্রশ্নটি ঢাক নাকি ডিজে এমন সরল বিভাজনের নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ঐতিহ্যকে আড়াল না করে কীভাবে দুটিকে পাশাপাশি রাখা যায়। ধর্মীয় আচার, মণ্ডপের পরিবেশ, প্রতিবেশীদের স্বস্তি এবং শব্দের মাত্রা বিবেচনায় রেখে সংগীতের আয়োজন করা গেলে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

কারণ, ঢাকের তালে যে আবেগ তৈরি হয়, তা কেবল একটি বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান সাংস্কৃতিক স্মৃতি।

প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় নতুনত্ব

দুর্গাপূজার বিবর্তনে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোর একটি ঘটেছে প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায়। একসময় প্রতিমার প্রচলিত রূপ, পরিচিত সাজসজ্জা এবং স্থানীয় কারুশিল্পের মধ্যেই পূজার সৌন্দর্য খুঁজে পেতেন দর্শনার্থীরা। এখন সেই ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে থিমভিত্তিক শিল্পভাবনা, সমসাময়িক সামাজিক বার্তা এবং স্থাপত্য ও নকশার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

কখনো মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঘরবাড়ির আদলে, কখনো লোকশিল্প ও মাটির কারুশিল্পকে সামনে রেখে। আবার কোনো কোনো আয়োজনে উঠে আসছে পরিবেশদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীশক্তি, মানবিকতা কিংবা সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়।

এভাবে মণ্ডপ পরিণত হচ্ছে একেকটি অস্থায়ী শিল্পপ্রদর্শনীতে। বাঁশ, মাটি, কাঠ, কাপড়, কাগজ, পাট ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দিয়ে শিল্পীরা নির্মাণ করছেন অভিনব সব কাঠামো। প্রতিমার রূপেও কোথাও দেখা যাচ্ছে ঐতিহ্যনির্ভর শৈলী, কোথাও আধুনিক শিল্পভাবনার প্রভাব।

এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক হলো, দুর্গাপূজা শিল্পী ও কারুশিল্পীদের জন্য সৃজনশীলতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, আলোকসজ্জাকারী, চিত্রশিল্পী, কাঠমিস্ত্রি, বাঁশশিল্পী ও নকশাবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সম্মিলিত শ্রমে গড়ে উঠছে উৎসবের দৃশ্যমান রূপ। একই সঙ্গে তাঁদের কাজের সুযোগ ও জীবিকার ক্ষেত্রও প্রসারিত হচ্ছে।

তবে থিমের প্রতিযোগিতা কখনো কখনো ব্যয়ের প্রতিযোগিতায়ও রূপ নিতে পারে। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত জাঁকজমক, ব্যয়বহুল সাজসজ্জা কিংবা চমকনির্ভর উপস্থাপনা মূল আয়োজনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে আড়াল করছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।

মণ্ডপ যত আধুনিকই হোক, তার কেন্দ্রে থাকা দেবী দুর্গার প্রতীকী তাৎপর্য শক্তি, ন্যায় এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় যেন হারিয়ে না যায়।

অর্থনীতি, সম্প্রীতি ও পরিবেশের প্রশ্ন

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা নির্মাণ, পোশাক, ফুল, মিষ্টি, খাবার, পরিবহন, মণ্ডপসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, কারুশিল্পী ও মৌসুমি শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বহুত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পারস্পরিক অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। তবে নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব রং ও উপকরণ ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিসর্জনের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পরিকল্পিত আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশের দুর্গাপূজা: ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তা

বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় দুর্গাপূজা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এই উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়, পরিচিতি ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

অনেক এলাকায় পূজামণ্ডপ ঘিরে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ দেখা যায়। কেউ আয়োজনের কাজে সহায়তা করেন, কেউ দর্শনার্থী হিসেবে আসেন, আবার কেউ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ধরনের অংশগ্রহণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে পারে।

তবে সম্প্রীতির কথা বলার পাশাপাশি নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, উপাসনালয়ের মর্যাদা এবং উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন এবং অন্যের বিশ্বাসের প্রতিও সম্মান দেখান।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার ভবিষ্যৎ তাই শুধু আয়োজনের আকার কিংবা দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; বরং উৎসবটি কতটা নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক হয়ে উঠছে, তার ওপরও নির্ভরশীল।

ঐতিহ্য ধরে রেখেই এগিয়ে চলা

সময় বদলানোর সঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজনেও পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক সংগীত ও সৃজনশীল মণ্ডপসজ্জা উৎসবকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্যবাহী শিল্প, ঢাকের সুর এবং উৎসবের মানবিক আবেদন অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি।

দুর্গাপূজার সার্থকতা শুধু মণ্ডপের জাঁকজমক কিংবা আয়োজনের ব্যাপকতায় নয়; বরং মানুষের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এর প্রকৃত সৌন্দর্য। ঢাকের তালের সঙ্গে আধুনিকতার নতুন সুর যুক্ত হলেও বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই চিরচেনা আবেগ যেন হারিয়ে না যায়। জমিদারবাড়ির আঙিনা থেকে থিমভিত্তিক মণ্ডপে পৌঁছানোর এই দীর্ঘ যাত্রায় দুর্গোৎসবের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে ঐতিহ্যকে ধারণ করে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলার মধ্যেই।

আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement