ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
শ্রীপুরে ভেষজের বিশ্ব: ৩০০ পরিবারের জীবিকা, আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
✎ অবজারভার ডিজিটাল ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ পিএম আপডেট: ১২.১০.২০২৬ ১:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভেষজ উদ্ভিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রামীণ অর্থনীতির এক ব্যতিক্রমী ও সমৃদ্ধ বলয়। উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দরগাচালা ও ডালেশ্বর গ্রামের ৩০০ থেকে ৩ ৩৫টি পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবছর এসব গ্রামে ভেষজ উপাদান কেনাবেচা ঘিরে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এ খাতের সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার দুই সহস্রাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একসময়ের বন-জঙ্গল নির্ভর এ পেশা এখন প্রসারিত হয়ে পৌঁছে গেছে বাসাবাড়ির আঙিনায়; ফলে বাণিজ্যিক সুখ্যাতির কারণে ডালেশ্বর গ্রামটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘ওষুধি গ্রাম’ হিসেবে।

এক গাছ, কয়েক ধাপের কর্মযজ্ঞ
দরগাচালা ও ডালেশ্বরের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ভেষজ উদ্ভিদের প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত নিখুঁত। বন-জঙ্গল, মাঠ কিংবা জলাশয় থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের পর প্রথমে তা আনা হয় স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে। এরপর চলে বাছাই, পরিষ্কার, কাটিং, স্লাইসিং ও রোদ্রে শুকানোর কাজ। চূড়ান্ত ধাপে বস্তাবন্দি করে এগুলো পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন নামি-দামি ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পাইকারদের কাছে।

এখানে অর্জুনের ছাল, বাসক পাতা, নিমপাতা, নিমের ছাল, আমলকী, হরীতকী, বয়ড়া, লজ্জাবতী, পেঁপে, শাপলা ও ক্ষুদেমানিকসহ প্রায় তিন শতাধিক প্রকারের ভেষজ উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

তিন প্রজন্মের হাতের ছোঁয়া
ডালেশ্বর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সুমন মিয়া জানান, তাঁদের পরিবারের জীবিকা এই ব্যবসার সঙ্গে কয়েক প্রজন্ম ধরে যুক্ত। তিনি বলেন, “এ ব্যবসা আমার দাদার বাবা শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে দাদা, তারপর আমার বাবা এবং এখন আমি করছি। আমাদের এখানে তিন শর ওপর আইটেম পাওয়া যায়।”

তিনি জানান, এখানে কাজের ধারা তিন ভাগে বিভক্ত—সংগ্রহকারীরা প্রাকৃতিকভাবে বন-জঙ্গল থেকে গাছগাছড়া সংগ্রহ করে আনেন, ব্যবসায়ীরা তা কিনে প্রক্রিয়াজাত করেন এবং পরবর্তীতে বড় বড় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তা কিনে নেন। সুমন মিয়ার মতে, দরগাচালা ও ডালেশ্বরের ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার সরাসরি এই পেশায় নির্ভরশীল।

বন থেকে উঠানে বিস্তৃত উৎপাদন
বর্তমানে শুধু বন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয়রা বাড়ির উঠান, রাস্তার পাশ ও খালি আঙিনাতেও ওষুধি গাছ রোপণ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় যুক্ত মো. নাঈম জানান, নিমপাতা, সজনে পাতা, বহেরা, আমলকীসহ নানা উপাদান শুকিয়ে ওষুধ কোম্পানিতে দেওয়া হয়, যার বড় একটি অংশ এখন গৃহস্থালির চারপাশ থেকেই উৎপাদিত হচ্ছে।

শ্রমের বিনিময়ে স্বাবলম্বী শ্রমজীবীরা
এই বাণিজ্যে বড় পাইকারদের পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন বহু দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক। পাতা শুকানো ও কাটিংয়ের কাজে নিযুক্ত শ্রমিক আলমগীর হোসেন জানান, দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করে তাঁদের সংসার চলে। এছাড়া স্থানীয় গৃহিণী ও নারীরাও ভেষজ উপাদান বাছাই ও শুকানোর কাজ করে পরিবারে অতিরিক্ত আয় যোগ করছেন। সংগ্রহকারী, কৃষক, শ্রমিক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও পরিবহন শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান জোগাচ্ছে এই খাত।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ ও আগামীর সম্ভাবনা
ভেষজ খাতকে কেন্দ্র করে গ্রামভিত্তিক স্বাবলম্বিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা। তিনি বলেন, “ওষুধি গাছের পাতা ও ছাল বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা চাই এরকম ওষুধি গ্রাম আরও গড়ে উঠুক।”

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, বসতবাড়ির আঙিনায় ভেষজ চাষে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি চারা বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের আরও স্বাবলম্বী করার সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত অভিজ্ঞতা, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং আয়ুর্বেদিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ—এই তিনের ওপর ভর করে শ্রীপুরের এই দুই গ্রাম এখন গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement