প্রচলিত রঙের পরিবর্তে ডালের দানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ঘোষবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। প্রতিমা নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় এক মণ ডাল। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিমা এবারের দুর্গোৎসবে দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
মণ্ডপ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমার শরীরজুড়ে একটির পর একটি ডালের দানা নিপুণভাবে সাজিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর অবয়ব। কারিগরদের দক্ষ হাতে সাধারণ ডাল রূপ নিচ্ছে নান্দনিক শিল্পকর্মে। প্রতিমা নির্মাণে খুলনা থেকে আসা ছয়জন কারিগর কাজ করছেন। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলছে তাঁদের এই কর্মযজ্ঞ।
আয়োজকদের ভাষ্য, গত বছর এই মণ্ডপে ধান দিয়ে প্রতিমা সাজিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তাঁরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজায় নতুনত্ব আনা এবং দর্শনার্থীদের কাছে উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই তাঁদের এ আয়োজন।
নির্মাণকাজ চলাকালেই ব্যতিক্রমী প্রতিমাটি দেখতে মণ্ডপে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন ধরনের এই শিল্পকর্ম নিয়ে তাঁদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে প্রতিমাটি দেখতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরের সভাপতি লালা ঘোষ জানান, দুর্গোৎসবে ভিন্নধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর শরীয়তপুর জেলার ১০২টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে নড়িয়ার ডালের দানায় গড়া দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এখন উৎসবের দিনগুলোতে ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম কতটা দর্শনার্থী আকৃষ্ট করতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আয়োজকেরা।
এফএস