খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী এলাকায় অধ্যাপক এম এম মনিরুল ইসলামের বসতঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে এ ঘটনায় তিনি দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ঘরে আগুন ধরে গেলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মিলে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহত মনিরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খুলতেই সামনে একটি ব্যাগ দেখতে পান তিনি। ব্যাগটি কারা সেখানে রেখেছে, তা তাঁর জানা নেই। সেটি হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের পর ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা আগুন নেভান।
আহত অধ্যাপক বর্তমানে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি উপজেলার সেনহাটী এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে। বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী এবং পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ রাশেদুজ্জামান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও দুর্বৃত্তরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের বাড়িতে পাওয়া ব্যাগটি কে বা কারা রেখেছে এবং সেটিতে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
ডব্লিউএম/এসএস