রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন আয়োজকেরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুই পাশে আটকে থাকা পর্যটকেরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধকারীরা কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে সেগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। এতে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ায় দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে।
সাধারণত প্রতিদিন দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রোববার একবার এসকর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকেরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা তাঁদের আটকে দেন। অন্যদিকে, সাজেক থেকে বের হওয়া পর্যটকেরাও মাচালং এলাকায় আটকা পড়েন।
পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর উভয় পাশে আটকে থাকা পর্যটকেরা সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল সংগঠন দুটি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ বিবৃতিতে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ওই গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
এসএস