শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর আদর্শের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সেমিনার হলে সমতলের নৃগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জাতিগোষ্ঠী দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা সমতল—দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার আন্তরিক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে সাচিং প্রু জেরী বলেন, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার পরিচালনায় ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় পার্বত্য ও সমতলের জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থসামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি এবং সার্বিক সামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জাতিগোষ্ঠী দলের প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার সচেতন। প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, এ সভা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর ‘রেইনবো নেশন’ ঘোষণার প্রতিফলন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের আলোচনার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
মতবিনিময় সভায় সমতলের নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়গুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জাতিগোষ্ঠী দল ও সমতলের নৃগোষ্ঠী সংগঠনের সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
আরকে/এসএস