রানবন্যার ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ছুড়ে দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। শাই হোপের ঝোড়ো সেঞ্চুরি ও শেরফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে সফরকারীরা।
শুক্রবার রাঁচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। কিন্তু ভারতের সেই বড় পুঁজি শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি। হোপ ও রাদারফোর্ডের ব্যাটে লক্ষ্যটাকেও মামুলি বানিয়ে ফেলে ক্যারিবীয়রা।
ভারতের ইনিংসে আলো ছড়ান সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৪১ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। ইশান কিষানও ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ২২ বলে ৪৩ রান করে দলের বড় সংগ্রহে অবদান রাখেন তিনি। পরে শ্রেয়াস আইয়ারের ৪০ ও তিলক ভার্মার অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে আড়াই শ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারত।
এমন সংগ্রহ গড়ার পর ভারতের জয়ের সম্ভাবনাই ছিল বেশি। কিন্তু রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাইল মায়াঙ্ক যাদবের বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ সামর্থ্য দেখায় ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।
অধিনায়ক শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড মিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে গড়ে ওঠে ১২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চার-ছক্কার ঝড়, যা ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন হোপ। অধিনায়কোচিত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মিশেলে মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কা। হোপের ব্যাটে একের পর এক বাউন্ডারিতে ভারতের বোলিং আক্রমণ দিশেহারা হয়ে পড়ে। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৪৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে তাদের স্মরণীয় জয়গুলোর একটি অর্জন করে ক্যারিবীয়রা।
এই জয়ের ফলে সিরিজে শুধু সমতাই ফেরায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বরং বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে নিজেদের সামর্থ্যেরও জানান দিয়েছে। অন্যদিকে ২৪৯ রান তুলেও হারতে হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে ভারতকে। ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়েও বোলিংয়ে সেই রান রক্ষা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। হোপের সেঞ্চুরি, রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংস এবং শেফার্ডের কার্যকর অবদান। সব মিলিয়ে রাঁচির রাতটি হয়ে থাকল ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্মরণীয় এক জয় হিসেবে।
এফএস