
সংগৃহীত ছবি
একসময় রাজা-বাদশা ও জমিদারদের বিয়ের শোভাযাত্রায় হাতির পিঠে চড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যেত। সময়ের পরিক্রমায় সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।
পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন গারমেন্টস শ্রমিক শাকিল মিয়া। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে ছিল না কোনো যৌতুকের দাবি।
বিয়েতে নির্ধারিত আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর নগদে নববধূর হাতে তুলে দেন বর।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের চকনদী গ্রামে এ আয়োজন করা হয়।
শাকিল মিয়া ওই গ্রামের সায়েদ আলীর ছেলে। তিনি একই এলাকার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করতে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে যান।
হাতির পিঠে বর আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে কনের বাড়িতে ভিড় করেন শত শত নারী-পুরুষ। বরকে একনজর দেখতে কৌতূহলী মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বরযাত্রীদের জন্য আলাদা মাইক্রোবাসের ব্যবস্থাও ছিল। সব মিলিয়ে বিয়ের আয়োজনটি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতেই এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন শাকিল। হাতির পিঠে চড়ে বর আসার দৃশ্যটি দেখতে অনেকেই কনের বাড়িতে জড়ো হন। বর হাতির পিঠ থেকে নেমে কনের বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করলে সেখানে শুরু হয় হৈচৈ এবং আনন্দ-উৎসব।
বিয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল যৌতুকবিহীন আয়োজন। তবে বিয়ের কাবিনে দেনমোহর ধার্য করা হয় আড়াই লাখ টাকা, যা বর নগদে পরিশোধ করেন। বিয়েতে আনা হাতিটির ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বরযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয় মাইক্রোবাস
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, মায়ের শখ পূরণ করতেই শাকিল হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যান। এলাকায় এ ধরনের আয়োজন আগে দেখা যায়নি। এ কারণে হাতির পিঠে চড়ে আসা বরকে দেখতে শত শত মানুষ বিয়েবাড়িতে ভিড় করেন।
বরের বাড়ি থেকে কনের বাড়ির দূরত্ব প্রায় তিন মাইল। এই পথজুড়ে হাতির পিঠে বরকে একনজর দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আধুনিক আয়োজনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা পুরোনো দিনের এক রীতির অনুকরণে শাকিলের এ বিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মায়ের শখ পূরণ, যৌতুকবিহীন বিয়ে এবং নগদ দেনমোহর পরিশোধ সব মিলিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
টিআই